শিক্ষিত আর বেকার! চাকরির সংকটে ‘আরশোলা’ কি অতিষ্ঠের পথে?
education18 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

শিক্ষিত আর বেকার! চাকরির সংকটে ‘আরশোলা’ কি অতিষ্ঠের পথে?

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

উচ্চশিক্ষা বাড়লেও চাকরি কমে যাওয়ায় তরুণরা বেকারত্বের মুখোমুখি। দক্ষতা‑মিল না থাকা ও স্বয়ংক্রিয়তার প্রভাব এই সমস্যার মূল কারণ।

কলকাতা — গত তিন দশকে উচ্চশিক্ষা অর্জনের প্রবাহ ত্বরান্বিত হয়েছে, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে চাকরির প্রবাহ বাড়াচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে স্নাতক‑স্নাতকোত্তর সংখ্যা বেড়েছে, আর লক্ষ লক্ষ পরিবার এখনো “ভালো ডিগ্রি মানেই ভালো চাকরি” এই ধারণায় বন্দী। বাস্তবে, বেকারত্বের হার ক্রমেই বাড়ছে, একদিকে চাকরির বাজারে দক্ষতা‑মিল না থাকা প্রার্থীদের ধারা দেখা যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩‑এর শেষের দিকে সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে ভর্তি পদের সংখ্যা গড়ে ২০% কমে গিয়েছে, যদিও স্নাতক সংখ্যা ৪৫% বাড়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই তত্ত্বীয় জ্ঞানই প্রদান করে, আর প্রায়োগিক দক্ষতা ও শিল্প‑প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণকে তুচ্ছ করে দেয়। ফলে তরুণ প্রার্থীরা চাকরির যোগ্যতা পূরণে অক্ষম হয়ে পড়ে, যাকে ‘ডিগ্রি‑ইনফ্লেশন’ বলা হয়।

অন্যদিকে, স্বয়ংক্রিয়তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুতই শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছে, যেখানে রুটিন কাজগুলো যন্ত্রে বদলাচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধুমাত্র প্রযুক্তি‑সচেতন কর্মিকদের জন্য সুযোগ তৈরি করে, আর ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে প্রস্তুত শিক্ষার্থীদের জন্য বেকারত্বের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

সরকারের নীতি-নির্ধারণে যদিও স্কিল ডেভেলপমেন্ট স্কিম চালু হয়েছে, তবু তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বহু কলেজে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভাব, প্রশিক্ষণ কোর্সের গুণগত মানের পতন ইত্যাদি সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষিত বেকারত্বের চক্র টিকে থাকবে।

উপসংহারে বলা যায়, উচ্চশিক্ষা আর চাকরির মধ্যে সমন্বয় ছাড়া শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থাকবে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প ও সরকারকে একত্রে কাজ করে দক্ষতার ভিত্তিতে কোর্স পুনর্গঠন, ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণকে শক্তিশালী করতে হবে, নতুবা ‘আরশোলা’ অতিষ্ঠ হয়ে রয়ে যাবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX