
রাতে উধাও ঘুম! বছরে ৮০ ঘণ্টা ঘুম হারাচ্ছে কলকাতা, বলছে সমীক্ষা
একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা প্রকাশ করেছে যে, কলকাতাবাসীরা গড়ে বছরে ৮০ ঘণ্টা ঘুম হারাচ্ছেন। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও শহুরে শব্দের বৃদ্ধিই মূল কারণ, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
কলকাতায় রাতের ঘুমের ঘাটতি আজ আর কল্পনা নয়; আন্তর্জাতিক একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছে যে, গত এক বছরে শহরের নাগরিকরা গড়ে ৮০ ঘণ্টা ঘুম হারাচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রাতের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের শোবার সময়ের স্বাভাবিক রিদম ভেঙে পড়ছে।
এই গবেষণায় ১,২০০ জন কলকাতাবাসীর ওপর ১২ মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং দেখা গেছে, গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে গেলে ঘুমের গুণগত মান হ্রাস পায়। তাছাড়া বাতাসে বাড়তি ধূলিকণার পরিমাণ এবং শহুরে শব্দের স্তরও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, ঘুমের ঘাটতি কেবল মানসিক ক্লান্তি নয়, বরং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং মানসিক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা সমাজের উৎপাদনশীলতায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে পারে। তাই, শীতল ঘুমের পরিবেশ তৈরি করা এবং শোয়ার ঘরে যথাযথ বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি।
কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পসের স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে; রাত্রিকালীন রাস্তায় গাছের ছায়া বাড়ানো, জোরে শব্দের সীমা নির্ধারণ এবং সরকারি হাসপাতালের ঘুম ক্লিনিক চালু করা পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, শহরের গ্রীন এলাকা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টির জলর সঠিক ব্যবস্থাপনা দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের সমস্যার সমাধান করে তুলবে।
উপসংহারে বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন কেবল তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের মৌলিক বিশ্রামকেও প্রভাবিত করছে। তাই, ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত দায়িত্ব গ্রহণ করে বাসস্থানকে শীতল ও প্রশান্ত রাখলে, শহরের ঘুমের ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।




