কলকাতায় হু হু করে বাড়ছে ফুসফুসের রোগ, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার প্রকোপে চিন্তিত চিকিৎসকরা
স্বাস্থ্য1 দিন আগে১ মিনিট পড়ুন

কলকাতায় হু হু করে বাড়ছে ফুসফুসের রোগ, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার প্রকোপে চিন্তিত চিকিৎসকরা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

কলকাতার হাসপাতালে ফুসফুসের রোগীর সংখ্যা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ এবং ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।

শহরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এই বছর ফুসফুস এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যায় আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এই বছর ফুসফুসের রোগে ভর্তি হওয়া রোগীর হার প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং নিউমোনিয়ার মতো সংক্রামক রোগের প্রকোপ সাধারণ মানুষকে বিপর করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র ঋতু পরিবর্তন নয়, শহরের ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণ এবং ধুলোবালির প্রভাব এই পরিস্থিতির জন্য বড়সড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘক্ষণ দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকার ফলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি দ্রুত নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু এবং প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আইসিইউ-তে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বরে ভুল ওষুধ খাওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া এবং সচেতনতার অভাবের কারণে অনেক রোগী গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছেন। বর্তমানে অনেক হাসপাতালেই অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন পড়ছে, যা স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে কিছু জরুরি সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে বেরোনোর সময় মাস্ক ব্যবহার করা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং পর্যাপ্ত জল পান করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, যাদের আগে থেকেই হাঁপানি বা সিওপিডি-র মতো সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত চেকআপ করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, শহরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এই রোগীর চাপ একটি সতর্কবার্তা। জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ না করলে আগামী দিনে এই সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি স্তরে বায়ু দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে শহরের মানুষ সুস্থভাবে শ্বাস নিতে পারেন।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX