
পাকিস্তানের চেয়ে বেশি বাঁচছেন ভারতীয়রা, তবে বাংলাদেশ ও আমেরিকার থেকে পিছিয়ে ভারত; হু-র রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, গড় আয়ুর নিরিখে পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে দিয়েছে ভারত। তবে বাংলাদেশ ও আমেরিকার তুলনায় ভারতীয়রা এখনও পিছিয়ে রয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-র (WHO) সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে গড় আয়ু নিয়ে উঠে এল বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, জীবনযাত্রার মান এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির ফলে বর্তমানে পাকিস্তানের তুলনায় ভারতীয়দের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে স্বাস্থ্য সূচকের লড়াই চললেও, এবার দেখা যাচ্ছে ভারতীয় নাগরিকরা গড়ে পাকিস্তানিদের চেয়ে বেশি বছর বাঁচছেন।
তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ এবং উন্নত রাষ্ট্র আমেরিকা— এই দুই দেশের তুলনায় ভারতীয়দের গড় আয়ু এখনও বেশ পিছিয়ে। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি এবং টিকাকরণ কর্মসূচির সাফল্যের ফলে তাদের গড় আয়ু ভারতের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে, উন্নত পরিকাঠামো ও আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ থাকায় আমেরিকার নাগরিকদের আয়ু স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে আয়ু বৃদ্ধির পেছনে সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প এবং সংক্রামক রোগের প্রকোপ কমার ভূমিকা রয়েছে। তবে অপুষ্টি, দূষণ এবং জীবনযাত্রার অনিয়ম এখনও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের সঠিক চিকিৎসার অভাব গড় আয়ু বৃদ্ধিতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই রিপোর্টটি ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের জন্য একটি সতর্কবার্তা এবং অনুপ্রেরণা দুই-ই। একদিকে যেমন পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে যাওয়া ইতিবাচক, তেমনই বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের থেকে পিছিয়ে থাকা চিন্তার বিষয়। আগামী দিনে যদি পুষ্টি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও জোরদার করা যায়, তবে গড় আয়ুর এই পরিসংখ্যান আরও উন্নত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখনও অনেকটা পথ বাকি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছতে হলে কেবল চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।




