
ডিজিটাল কর চাপালে ১০০ % শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, নতুন বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল পরিষেবা কর আরোপের পর ট্রাম্প ১০০ % শুল্কের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা নতুন বাণিজ্যযুদ্ধের সংকেত বহন করে। ভারতীয় আইটি সেক্টরসহ বিশ্ববাজারে এর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।
ডিজিটাল পরিষেবা কর (ডিজিটাল সেবা কর) যুক্তরাষ্ট্রে আরোপের পরে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অফিসিয়াল সতর্কবাণী গুঞ্জরায়। হুঁশিয়ারিতে বলা হয়েছে, যেসব দেশ তাদের প্রযুক্তি সংস্থা-ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর ওপর এই কর বসাবে, তাদের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ % শুল্ক আরোপ করতে পারে। এ ঘোষণায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন সংঘাতের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সেইসাথে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে গ্লোবাল আইটি সেক্টরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ভারতীয় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ও ক্লাউড সেবা প্রদানকারী গুলোতে সরাসরি প্রভাব পড়বে, কারণ তাদের অনেকই মার্কিন বাজারে বড় অংশীদার। শুল্কের প্রয়োগ হলে, এই কোম্পানিগুলোর পণ্য ও সেবা মূল্য বৃদ্ধি পাবে, ফলে ভারতীয় গ্রাহকের ভোগে সীমাবদ্ধতা আসবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যও ইতিমধ্যে ডিজিটাল করের খোঁজে রয়েছে, তাই ট্রাম্পের চরম পদক্ষেপ ইউরোপীয় দেশগুলিরও রাগ জাগাতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডাব্লিউটিও) এর বিধিমালা অনুসারে, একতরফা শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সমান বলে বিবেচিত হয়। ফলে, ডব্লিউটিওর মধ্যস্থতায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সম্ভাবনা বাড়বে।
কোলকাতা ভিত্তিক ব্যবসা বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন বাণিজ্য যুদ্ধের ঝুঁকি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে। দুই দেশই বাণিজ্যিক পারস্পরিক সুবিধা বজায় রাখতে দর-কষাকষি চালিয়ে যাবে, তবে সাপ্লাই চেইনের পুনর্গঠন, বিকল্প বাজার অনুসন্ধান ইত্যাদি বিষয়গুলোতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ডিজিটাল করের প্রয়োগের পর ট্রাম্পের ১০০ % শুল্কের হুঁশিয়ারি কেবলই যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স নীতির প্রতিক্রিয়া নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন রূপকে ইঙ্গিত করে। এ পরিস্থিতিতে সকল দেশকে স্বচ্ছ নীতি নির্ধারণ, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করার প্রয়োজন হবে, নতুবা বাণিজ্য যুদ্ধের শিখা আরও বাড়তে পারে।




