
সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিন দিনের সরকারি সফরে সেশেলস রওনা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিন দিনের সরকারি সফরে সেশেলস দ্বীপপুঞ্জে রওনা হয়ে ভারত-সেশেলস সম্পর্ক মজবুত করার লক্ষ্যে বৈঠক করেন। সফরটি দেশের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইন্ডো‑ইশিয়ান অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।
নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উঠে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক মজবুত করার লক্ষ্য নিয়ে সেশেলস দ্বীপপুঞ্জে তিন দিনের সরকারি সফর শুরু করেন। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, সফরের মূল উদ্দেশ্য হল সমুদ্র নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সহযোগিতা ও সামুদ্রিক গবেষণায় পারস্পরিক সমঝোতা গড়ে তোলা, পাশাপাশি দেশের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনকে বৈশ্বিক মঞ্চে তুলে ধরা।
প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিনই ভিক্টোরিয়া হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং সাইটে অবতরণ করে, সেশেলসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ, সশস্ত্র নিরাপত্তা ও জাহাজ ট্র্যাকিং সিস্টেমে যৌথ উদ্যোগের কথা উঠে, যা দু'দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে। এছাড়া বাণিজ্যিক চুক্তি, পর্যটন ও শিক্ষার ক্ষেত্রে বিনিময় বাড়াতে নতুন প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইন্ডো-ইশিয়ান অঞ্চলে চীনা উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সেশেলস, যেটি আন্তর্জাতিক মহাসাগরীয় রুটের গুরুত্বপূর্ণ নোড, ভারতের জন্য কৌশলগত বন্ধুত্বের মঞ্চ হয়ে উঠেছে। গত বছরই দু'দেশের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা এই সফরে আরও দৃঢ়তায় বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দূরদর্শী বিশ্লেষকরা এই সফরকে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কদম হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তারা উল্লেখ করেন, সুদূরপ্রসারী দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা, ভারতকে সমুদ্র পথে বাণিজ্যের মূলধারায় রাখবে এবং দেশের সুবর্ণ জয়ন্তীকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি দেবে। এছাড়া, সেশেলসের তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রযুক্তি ও স্টার্ট‑আপ সংক্রান্ত কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হবে, যা দু'দেশের অর্থনৈতিক সংযোগকে নতুন দিশা দেখাবে।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই তিন দিনের সফর শুধুই কূটনৈতিক ভ্রমণ নয়, বরং ভারতের সামুদ্রিক কৌশলের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে গৃহীত একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা। সেশেলসের সঙ্গে বর্ধিত সহযোগিতা, নিরাপত্তা চুক্তি ও বাণিজ্যিক চুক্তি ভবিষ্যতে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দেশীয়ভাবে সুবর্ণ জয়ন্তীর উল্লাসকে আন্তর্জাতিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করবে।




