
স্কারবারো শোলের আশেপাশে চীনের বৃহৎ যৌথ নৌ-বিমান মহড়া, দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা বাড়ল
চীনের বিশাল নৌ-বিমান মহড়া স্কারবারো শোলে চালু হয়েছে, যা দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ফিলিপাইন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তীব্র নিন্দা পেয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান বাড়িয়েছে।
বেজিংয়ের কমান্ড সেন্টার শনিবার রাতেই দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্কারবারো শোল (Scarborough Shoal) অঞ্চলে বিশাল নৌ-বিমান মহড়া চালু করে। চীনের পঞ্চম নৌবাহিনীর ফ্লিট এবং সর্বশেষ মডেলের যুদ্ধবিমান একসঙ্গে সমুদ্রের উপর ২৪ ঘন্টার মধ্যে বহু আক্রমণাত্মক অনুকরণ সম্পন্ন করে। মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল "প্রশাসনিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সমুদ্রের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা" বলে চীনা মিডিয়া জানায়।
এই মহড়া ফিলিপাইনের সঙ্গে চলমান সীমানা বিরোধের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়। স্কারবারো শোলের উপর ফিলিপাইনের দাবি চীনকে দীর্ঘদিনের বিরোধের মূল বিষয় করে তুলেছে, আর সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেয়ে ফিলিপাইনের সামরিক শক্তি বাড়ছে। ফলে চীন এই মহড়া দিয়ে তার ক্ষমতা প্রদর্শন করে, যাতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের আগে সতর্কতা জাগে।
মহড়া চলাকালে চীনের পৃষ্ঠপোষক জাহাজগুলো একাধিকবার সমুদ্রের সীমা অতিক্রম করে, যা ফিলিপাইনের নৌবাহিনীর তীব্র আপত্তি তৈরি করে। ফিলিপাইনের ডিফেন্স মন্ত্রণালয় দ্রুতই কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে চীনকে অনুরোধ করে যাতে তারা সাময়িকভাবে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করে, যাতে অতিরিক্ত উত্তেজনা না বাড়ে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন যে, এই ধরনের বৃহৎ মহড়া দক্ষিণ চীন সাগরের ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। যদি উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের পথ না খুলে, তবে ভবিষ্যতে সামুদ্রিক সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হল উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে ধাবিত করা।
উপসংহারে স্পষ্ট যে, স্কারবারো শোলের আশেপাশে চীনের এই যৌথ মহড়া কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনৈতিক তীব্রতা বাড়িয়েছে। তবু যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সহ অন্যান্য দেশগুলোকে এই অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ পথে রাখার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে, যাতে সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।




