
রাশিয়া‑বাংলাদেশের বাণিজ্যে রুপি, ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ
রাশিয়া-বাংলাদেশের বাণিজ্যে রুপি ব্যবহার করার প্রস্তাব ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে। এই পদক্ষেপ রাশিয়া ও বাংলাদেশ উভয়ের মুদ্রা ঝুঁকি কমিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
নয়াদিল্লিতে রাশিয়া ও বাংলাদেশ যে বাণিজ্যিক আলোচনার মঞ্চে রুপি ব্যবহার করার প্রস্তাব তুলেছে, তা আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে বড় আলোড়ন তুলেছে। রাশিয়া ডলারের আধিপত্য কমিয়ে নিজস্ব অর্থনীতিকে সুশক্তি করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপে হাত বাড়াচ্ছে, আর বাংলাদেশকে ভারতীয় রুপি স্বীকৃত মুদ্রা হিসেবে গ্রহণের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। উভয় দেশই তেল‑গ্যাস, জ্বালানি, কৃষি পণ্য ও প্রযুক্তি সেবায় পারস্পরিক লেনদেন বাড়াতে চায়, যা ডলার-ভিত্তিক লেনদেনের চেয়ে কম খরচে সম্পন্ন হবে বলে ধারণা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপি ব্যবহারে রাশিয়া তার বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে ডলারের অংশ কমাতে পারবে, তেমনি বাংলাদেশও মুদ্রা ঝুঁকি কমিয়ে মুদ্রা রিজার্ভের বৈচিত্র্য বাড়াতে পারবে। তবে রুপি এখনও আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে সীমিত স্বীকৃতি পায়, তাই লেনদেনের স্বচ্ছতা ও রূপান্তর প্রক্রিয়ার মসৃণতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক রুপি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নীতি সমর্থন দিতে পারে।
কোলকাতার বাণিজ্যিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, রুপি ব্যবহারে ভারতীয় রপ্তানি-আমদানি চক্রে স্বল্পমেয়াদে একধরনের সুবিধা আসতে পারে। রুপি-ভিত্তিক লেনদেনের মাধ্যমে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা ডলার রেটের ওঠাপড়া থেকে রক্ষা পাবে, আর বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়তে পারে। তবে লজিস্টিক ও ব্যাংকিং সিস্টেমে নতুন কাঠামো গড়ে তোলার সময় আর্থিক সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
সর্বশেষে, রাশিয়া‑বাংলাদেশের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার কাঠামোতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। ডলারকে একমাত্র বৈশ্বিক লেনদেনের মুদ্রা হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে, রুপি-ভিত্তিক বাণিজ্য উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনকে বাড়িয়ে তুলবে। তবে বাস্তবায়নকে সফল করতে বৈশ্বিক আর্থিক সংস্থার সমন্বিত সমর্থন ও স্বচ্ছ নীতি বাস্তবায়ন অপরিহার্য।




