
উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী মোদী, তাশখন্দে ঐতিহাসিক মুহূর্ত
উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশটির সর্বোচ্চ সম্মান ‘অলিয় দারাজালি দোস্তলিক’ প্রদান করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভ এই সম্মান দেওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের মজবুত বন্ধুত্বের বার্তা দিলেন।
দুই দেশের বন্ধুত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে। রবিবারের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশটির সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘অলিয় দারাজালি দোস্তলিক’ অর্ডারে ভূষিত করা হয়েছে। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভ সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে এই সম্মান প্রদান করেন। এই পদক প্রদানের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সামনে এল।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভ বলেন, ভারতের সঙ্গে উজবেকিস্তানের সম্পর্ক এখন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা এই মাইলফলক স্পর্শ করতে সাহায্য করেছে। বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, এই সম্মান তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীও এই সম্মানের জন্য উজবেকিস্তান সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই পুরস্কার কেবল তাঁর ব্যক্তিগত নয়, বরং দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মজবুত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে কানেক্টিভিটি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উজবেকিস্তানের গুরুত্ব অপরিসীম। এই সম্মানের ফলে আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটন ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাশখন্দের এই বিশেষ মুহূর্তটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত রাজকীয় এবং উষ্ণ অভ্যর্থনায় ভরা। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই রসায়ন কেবল রাজনৈতিক চুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক নতুন পথ দেখাল। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর এবং প্রাপ্ত সম্মান দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে সাহায্য করবে।
পরিশেষে বলা যায়, উজবেকিস্তানের এই সর্বোচ্চ সম্মান ভারতের বিদেশনীতির এক বড় জয়। এই স্বীকৃতি কেবল প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা এবং বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কৌশলেরই এক সফল পরিণতি।




