ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ‘গেরান’ ড্রোনের দাপট, এবার সেই প্রযুক্তির মোহে ইরান
international13 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ‘গেরান’ ড্রোনের দাপট, এবার সেই প্রযুক্তির মোহে ইরান

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত জেট-চালিত ‘গেরান’ ড্রোনের কার্যকারিতা দেখে আগ্রহী ইরান। ইরানের নিজস্ব ‘শাহিদ-১৩৬’ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ হিসেবে এই প্রযুক্তির আদান-প্রদান দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধের রণক্ষেত্রে রাশিয়ার ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘গেরান’ (Geran) ড্রোনের কার্যকারিতা দেখে এবার প্রবল আগ্রহী হয়ে উঠেছে ইরান। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে রাশিয়া যেভাবে জেট-চালিত এই ড্রোনগুলিকে ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক পরিকাঠামো এবং কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। মূলত এই প্রযুক্তির বিধ্বংসী ক্ষমতা এবং দীর্ঘ পাল্লার আক্রমণের সামর্থ্যই ইরানকে আকৃষ্ট করেছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার এই ‘গেরান’ ড্রোনগুলি আসলে ইরানেরই ‘শাহিদ-১৩৬’ (Shahed-136) ড্রোনের একটি উন্নত সংস্করণ। তবে রাশিয়া এই প্রযুক্তিতে নিজস্ব কিছু পরিবর্তন এনেছে, যার ফলে ড্রোনগুলি আরও দ্রুত গতিতে এবং অধিক নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে। এখন ইরান চাইছে রাশিয়ার কাছ থেকে সেই উন্নত প্রযুক্তির গোপন সূত্রগুলি বা আপগ্রেডেড সংস্করণটি সংগ্রহ করতে, যাতে তারা নিজেদের আকাশপথে আক্রমণ করার ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে নিতে পারে।

এই প্রযুক্তির আদান-প্রদান কেবল দুটি দেশের সামরিক সম্পর্কেরই প্রতিফলন নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য এবং পূর্ব ইউরোপের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মোড় আনতে পারে। রাশিয়ার এই জেট-চালিত ড্রোনগুলি রাডার ফাঁকি দিয়ে গভীরে প্রবেশ করতে পারে, যা যেকোনো দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইরানের এই আগ্রহের ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, আধুনিক যুদ্ধের সংজ্ঞা বদলে দিচ্ছে এই ড্রোন প্রযুক্তি। যেখানে প্রথাগত যুদ্ধবিমান বা মিসাইলের তুলনায় ড্রোন অনেক কম খরচে এবং কম ঝুঁকিতে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম। রাশিয়া ও ইরানের এই প্রযুক্তিগত মেলবন্ধন আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করলেও, সামরিক শক্তির লড়াইয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতেই দুই দেশ এই পথে হাঁটছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX