মাঝ আকাশে বন্ধ দুই ইঞ্জিন! ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমান ধ্বংসের ছক সহকারী পাইলটের, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা
international21 ঘণ্টা আগে২ মিনিট পড়ুন

মাঝ আকাশে বন্ধ দুই ইঞ্জিন! ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমান ধ্বংসের ছক সহকারী পাইলটের, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বিমানের সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামির বিমান ধ্বংস করার পরিকল্পনা ফাঁস হয়েছে। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় দুটি ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করার পর তিনি দ্বিতীয় এক পরিকল্পনা কার্যকর করতে চেয়েছিলেন, যা শেষ মুহূর্তে রুখে দেওয়া হয়।

আকাশপথে এক ভয়াবহ পরিণতির হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমান। সম্প্রতি এই বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনায় যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তাতে রীতিমতো শিউরে উঠছেন বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা। অভিযোগ উঠেছে, বিমানের সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামি পরিকল্পিতভাবে পুরো বিমানটিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ন্ত বিমানটিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য তিনি আগে থেকেই একাধিক পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত সহকারী পাইলটের কাছে বিমান ধ্বংস করার জন্য দুটি আলাদা পরিকল্পনা ছিল। তার প্রথম পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান এ’ ছিল মাঝ আকাশেই বিমানের দুটি ইঞ্জিন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া, যাতে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নিচে আছড়ে পড়ে। তবে কারিগরি জটিলতা বা অন্য কোনো কারণে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে তিনি দ্রুত ‘প্ল্যান বি’-তে চলে যান। দ্বিতীয় পরিকল্পনায় তিনি ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিমানটিকে এমনভাবে চালনা করতে চেয়েছিলেন যাতে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে এবং কেউ বেঁচে না ফেরে।

আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। ককপিটের ভেতরে থাকা বাকি ক্রু সদস্যদের অপ্রসুত সুযোগ নিয়ে তিনি বিমানের গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমগুলো অকেজো করার চেষ্টা করেন। তবে প্রধান পাইলটের তৎপরতা এবং বিমানের সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। সামান্য সময়ের ব্যবধানেই কয়েকশো যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছিল, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ককপিটের নিরাপত্তা বিধি আরও কঠোর করার কথা ভাবছে। বিশেষ করে সহকারী পাইলটদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং তাঁদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি মানুষের মানসিক অস্থিরতা কীভাবে আকাশপথে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

বর্তমানে অভিযুক্ত হামাম আল-হাম্মামি আটক রয়েছেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর এই চরম পদক্ষেপের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নাকি অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র ছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। আপাতত এই ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ তাঁদের নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনরায় পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX