
পরমাণু অস্ত্রের দৌড়ে অপ্রতিরোধ্য দুই শক্তি, বিশ্বের ৮৬ শতাংশ অস্ত্রই তাঁদের হাতে: সিপ্রি রিপোর্ট
সিপ্রির ২০২৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের ৮৬ শতাংশ পারমাণবিক অস্ত্র এখন আমেরিকা ও রাশিয়ার হাতে। ইরানকে পরমাণু অস্ত্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা চললেও, বড় শক্তিগুলো তাদের অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত আধুনিকীকরণ করছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি।
বিশ্বজুড়ে পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা কমছে বলে যে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তব চিত্র তার ঠিক উল্টো। আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (সিপ্রি) সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৮৬ শতাংশই এখন মাত্র দুটি দেশের দখলে। আমেরিকা এবং রাশিয়ার এই একচেটিয়া আধিপত্য বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যদিও অনেক দেশ পরমাণু অস্ত্র মুক্ত পৃথিবীর কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে শক্তিশালী দেশগুলো তাদের অস্ত্রভাণ্ডার আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে তুলছে।
রিপোর্টটিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ইরানের মতো দেশগুলোকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে আমেরিকা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করছে। কিন্তু যে দেশগুলোর হাতে ইতিমধ্যেই এই বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে, তারা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নতুন নতুন প্রযুক্তির পরমাণু বোমা তৈরি করছে। অস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলির কার্যক্ষমতা এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই এখন সবথেকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি বিশ্বশান্তির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমেরিকা ও রাশিয়ার এই অস্ত্র প্রতিযোগিতা কেবল সামরিক শক্তির লড়াই নয়, বরং এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। যখন দুটি দেশই নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াতে থাকে, তখন ভুল বোঝাবুঝি বা ছোট কোনো সংঘাত থেকেও বড়সড় বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই প্রতিযোগিতার ফলে অন্যান্য দেশগুলোও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরমাণু অস্ত্রের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা গোটা বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক।
পরিশেষে বলা যায়, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের যে প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেওয়া হয়েছিল, তা এখন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে গিয়েছে। সিপ্রির এই রিপোর্ট প্রমাণ করে যে, বিশ্বনেতৃত্বের লড়াই এখন অস্ত্রের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। যদি দ্রুত কোনো কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তি বা কঠোর নিয়ম কার্যকর না করা হয়, তবে এই পরমাণু প্রতিযোগিতার পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ। বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে এখন কেবল আলোচনার বদলে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।




