যুদ্ধের রণকৌশলে বড় বদল? পারমাণবিক শক্তিচালিত দানবীয় ট্যাঙ্ক তৈরি করছে চিন
international20 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

যুদ্ধের রণকৌশলে বড় বদল? পারমাণবিক শক্তিচালিত দানবীয় ট্যাঙ্ক তৈরি করছে চিন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

৬০ টন ওজনের পারমাণবিক শক্তিচালিত এবং রেলগান সমৃদ্ধ এক বিধ্বংসী ট্যাঙ্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে চিন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক আধিপত্য বিস্তার করা।

বিশ্ব রাজনীতিতে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই সামরিক শক্তিতে ভারতকে টেক্কা দিতে নতুন চমক প্রস্তুত করছে বেজিং। চিনের সামরিক গবেষকরা এবার পরিকল্পনা করেছেন এক অভাবনীয় যুদ্ধ ট্যাঙ্কের। ৬০ টন ওজনের এই দানবীয় ট্যাঙ্কটি চলবে পারমাণবিক শক্তিতে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার চেষ্টা, যার মূল লক্ষ্য হতে পারে ভারত।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই ট্যাঙ্কটি হবে অত্যন্ত বিধ্বংসী। এতে বসানো থাকবে অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেলগান, যা প্রচলিত কামানের চেয়ে বহুগুণ বেশি গতিতে এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম। পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের ফলে এই ট্যাঙ্কের জ্বালানি সমস্যা থাকবে না বললেই চলে। ফলে একবার যুদ্ধের ময়দানে নামলে এটি দীর্ঘ সময় ধরে বিরতিহীনভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে, যা বর্তমানের ডিজেল বা পেট্রোল চালিত ট্যাঙ্কগুলোর পক্ষে অসম্ভব।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হিমালয়ের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘাত চলে আসছে। এই প্রতিকূল ভূখণ্ডে সাধারণ ট্যাঙ্ক চালানো যেমন কঠিন, তেমনই জ্বালানির সরবরাহ বজায় রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ। চিন যদি সত্যিই এই পারমাণবিক ট্যাঙ্ক বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তারা রণক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলের সামনে এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে এই ধরণের প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পারমাণবিক শক্তির ট্যাঙ্ক যুদ্ধের বিভীষিকাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পরমাণু শক্তির ঝুঁকি এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তা সত্ত্বেও, নিজেদের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে চিন যে কোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক প্রযুক্তির মিশেলে চিন তাদের রণকৌশলকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলছে। ভারত ইতিমধ্যেই সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করছে। তবে চিনের এই নতুন পরিকল্পনা দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কতটা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX