
তিব্বতে ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণ হারালেন অন্তত ১৬ জন
তিব্বতে ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ধসে পড়েছে শত শত বাড়ি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে উদ্ধারকাজে ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে প্রশাসন।
প্রকৃতির ভয়ঙ্কর তাণ্ডবে সর্বস্বান্ত চিনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ৭.০ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। ঘুমের ঘোরেই আসা এই বিপর্যয়ে তিব্বতের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, তবে নিখোঁজদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে শত শত বাড়ি। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অনেক জায়গায় ভূমিধস নেমেছে, যার ফলে মূল রাস্তাগুলি সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক গ্রাম এখন বাইরের দুনিয়া থেকে পুরোপুরি আলাদা হয়ে গিয়েছে, ফলে উদ্ধারকাজে চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন ত্রাণকর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূমিকম্পের পর থেকে এলাকাটিতে ছোট ছোট আরও বেশ কিছু কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
চিন সরকার দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। সেনাবাহিনী এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তবে তিব্বতের প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অস্থায়ী শিবির খোলা হয়েছে এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। তবে দীর্ঘ সময় পর এত শক্তিশালী কম্পন ওই এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। ঘরবাড়ি হারানোর পাশাপাশি গবাদি পশুর মৃত্যু এবং চাষের জমির ক্ষতিতে স্থানীয় মানুষের জীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সামগ্রিকভাবে, তিব্বতের এই বিপর্যয় এক চরম মানবিক সংকটের রূপ নিয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলিতে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করা। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে শোকাতুর হয়ে পড়েছে গোটা অঞ্চল।




