
কার্গিল থেকে অপারেশন সিঁদুর: ২৭ বছর পর ভারতীয় সেনার শক্তি কীভাবে বদলেছে
কার্গিল বিজয় দিবসের ২৭তম বার্ষিকীতে ভারতীয় সেনার আধুনিকায়নের প্রগতি উন্মোচিত হয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে উচ্চতর প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ যুক্ত হয়ে সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আজ ২৬ জুলাই কার্গিল বিজয় দিবসের ২৭তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ১৯৯৯ সালের গ্রীষ্মে, পাকিস্তানীয় দখলদারী তলবের মুখে ভারতীয় সেনা শীর্ষ পর্বতমালার কঠিন পথে “অপারেশন সিঁদুর” চালিয়ে কার্গিলের শীর্ষে বিজয় অর্জন করেছিল। তখন লেজার‑গাইডেড আর্টিলারি, প্যাটার্নেড রকেট সিস্টেম এবং পা-ইউ-ইউ-এফ‑এর মতো আধুনিক অস্ত্রের অভাব ছিল, তবে উচ্চ প্রশিক্ষণ ও তীব্র মানসিক দৃঢ়তা সেনাদের প্রধান গোপন অস্ত্র ছিল।
পরবর্তী দুই দশকে, সেনাবাহিনীর কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০১১ সালে “ড্রোন‑সাপোর্টেড রিকনসেশন” প্রকল্প চালু হয়, যার ফলে উচ্চ পর্বতশ্রেণীর চিত্র সংগ্রহে রিমোট সেন্সর ব্যবহার সম্ভব হয়েছে। ২০১৯ সালে ভেন্ডি‑ইন্ডিপেনডেন্ট ট্যাঙ্ক “অধার” গৃহীত হয়, যা শীতল তাপমাত্রা ও উচ্চ উচ্চতার টেরেইনে কার্যক্ষম। তাছাড়া, সাইবার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের দক্ষতা বাড়াতে “ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সেন্টার” গড়ে তোলা হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে, ভারতীয় সেনা এখন “যুদ্ধ‑পূর্ব প্রশিক্ষণ” এবং “মার্শাল‑বেসড লজিস্টিকস”কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নতুন এক্সো-সুইট, হাই-অল্টিটিউড রেসকিউ ড্রোন এবং স্বয়ংক্রিয় ফায়ার সাপোর্ট সিস্টেমের সংযোজনের ফলে শত্রুর গোপন আক্রমণকে দ্রুত চিহ্নিত করে অবিলম্বে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারছে। এই সবই সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছে।
সর্বোপরি, কার্গিলের বিজয় শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় সেনার ধারাবাহিক আধুনিকায়নের প্রমাণ। গত ২৭ বছরে যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ এবং কৌশলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা শক্তি, ভবিষ্যতে যে কোনো উচ্চ পর্বত বা সীমান্তে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।




