১২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে রেকর্ড ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের
national8 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

১২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে রেকর্ড ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন ১২০১ কিলোমিটার রেকর্ড ভেঙে সফল পরীক্ষামূলক যাত্রা সম্পন্ন করেছে। এই সাফল্য রেলওয়ে শিল্পে পরিষ্কার শক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

প্রায় এক হাজার দুইশো কিলোমিটারের দীর্ঘ যাত্রা সম্পন্ন করে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনটি রেলওয়ে ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক রচনা করেছে। নৌয়াদা-দিল্লি রুটে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত পরীক্ষামূলক সেবা সম্পন্ন করে যন্ত্রটি ১২০১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছে, যা এখন পর্যন্ত হাইড্রোজেন ট্রেনের রেকর্ড ভাঙে। এই অর্জন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে দৃঢ় সংকল্পের সরাসরি ফলাফল।

ট্রেনটি ‘ইন্ডিয়ান হাইড্রোজেন রেল’ প্রকল্পের অধীনে তৈরী, যেখানে হাইড্রোজেন গ্যাসকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। মোটর গাড়ির মতোই, ট্রেনের ইঞ্জিনে হাইড্রোজেনকে অক্সিজেনের সঙ্গে মিশিয়ে প্যানেল গরম না হয়ে স্বল্প সময়ে শক্তি উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হয় না, ফলে পরিবেশের উপর প্রভাব সর্বনিম্ন থাকে। বিশেষজ্ঞেরা বলেন, হাইড্রোজেন ট্রেনের গতি, আরাম এবং নিরাপত্তা ইন্ডিয়ান রেলওয়ের বিদ্যমান ডিজেলের ট্রেনের সমান অথবা তার চেয়েও বেশি।

পরিবেশগত দিক থেকে হাইড্রোজেন ট্রেনের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের গড় কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং গ্রীনহাউস গ্যাসের পরিমাণ হ্রাসে রেলওয়ে ব্যবস্থার এই পদক্ষেপটি এক বড় অগ্রগতি। তাছাড়া, হাইড্রোজেনের উৎপাদন এখন বাড়ছে, যেখানে অধিকাংশই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে প্রাপ্ত। ফলে, রেলওয়ে সেবার পরিবেশগত ফুটপ্রিন্ট কমে, এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির খরচও হ্রাস পায় বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

রেলওয়ে মন্ত্রী রমেশ সিং রথোয়ী পরীক্ষার পর ট্রেনে চড়ে গিয়ে মন্তব্য করেন, “এই সাফল্য শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং ভারতকে পরিষ্কার শক্তির পথে এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি।” তিনি আরও জানিয়ে দেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে হাইড্রোজেন ট্রেনের নেটওয়ার্ককে ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়িয়ে, মূলধারার রেল সেবায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারও এই ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহ বাড়িয়েছে।

উপসংহারে বলা যায়, ১২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা হাইড্রোজেন ট্রেনটি রেলওয়ে শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। জ্বালানির বৈচিত্র্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সাশ্রয়ের দিক থেকে এই প্রকল্প ভবিষ্যৎ ভারতীয় রেলগাড়ির মডেল হয়ে উঠবে। জনসাধারণের প্রত্যাশা ও সরকারের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি মিলে, শীঘ্রই দেশের রেল নেটওয়ার্কে হাইড্রোজেন ট্রেনের উপস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX