ভারতের এ-স্যাট পরীক্ষায় চমকেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা, সামনে এল গোপন অভিজ্ঞতা
national1 দিন আগে২ মিনিট পড়ুন

ভারতের এ-স্যাট পরীক্ষায় চমকেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা, সামনে এল গোপন অভিজ্ঞতা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

২০১৯ সালের 'মিশন শক্তি'র মাধ্যমে ভারতের এ-স্যাট ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সাফল্যে তাজ্জব হয়ে গিয়েছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতার কথা সামনে আসায় আন্তর্জাতিক মহলে ফের চর্চা শুরু হয়েছে ভারতের মহাকাশ সক্ষমতা নিয়ে।

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ ভারত যখন তার অ্যান্টি-স্যাটেলাইট বা এ-স্যাট ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন ইতিহাস গড়েছিল, তখন তা কেবল দেশের অভ্যন্তরে নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। 'মিশন শক্তি'-র মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করেছিল যে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার সক্ষমতা তার রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের সেই সময়ের অভিজ্ঞতা সামনে আসায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে, যে কীভাবে ভারতের এই আকস্মিক পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকে অবাক করে দিয়েছিল।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ভারতের এই পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে আগে থেকে অবগত থাকলেও, এর নিখুঁত কার্যকারিতা এবং সময়সত্ত্বতা তাদের চমকে দিয়েছিল। ভারতের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি যেভাবে কক্ষপথে থাকা একটি উপগ্রহকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছিল, তা মার্কিন সামরিক কৌশলবিদদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এই পরীক্ষার ফলে ভারত বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় প্রবেশ করে, যাদের এই ধরনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিচার করলে, এ-স্যাট পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। মহাকাশ এখন কেবল গবেষণার জায়গা নয়, বরং যুদ্ধের এক সম্ভাব্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংস করার ক্ষমতা থাকলে তা যুদ্ধের কৌশল এবং গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদানে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এই স্বীকারোক্তি আসলে ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিরই এক স্বীকৃতি বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

তবে এই পরীক্ষার পর আন্তর্জাতিক মহলে মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ বা 'স্পেস ডেব্রিস' নিয়ে কিছু উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আমেরিকা এবং ইউরোপীয় দেশগুলি সতর্ক করেছিল যে, এই ধরনের পরীক্ষা মহাকাশের পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তা সত্ত্বেও, ভারতের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে ভারত কোনো আপস করতে রাজি নয়।

সামগ্রিকভাবে, 'মিশন শক্তি' কেবল একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছিল না, বরং তা ছিল বিশ্বমঞ্চে ভারতের এক শক্তিশালী বার্তা। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এই সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সামরিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্য এখন আর উপেক্ষা করার মতো বিষয় নয়। আগামী দিনে মহাকাশ গবেষণায় ভারত আরও বড় পদক্ষেপ নেবে, সেই ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে এই ঘটনায়।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX