রাজ্য হোক বা আদালত, প্রাধান্য পাক হিন্দি! অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মন্তব্যে তোলপাড়
national6 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

রাজ্য হোক বা আদালত, প্রাধান্য পাক হিন্দি! অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মন্তব্যে তোলপাড়

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

এলাহাবাদ হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গৌতম চৌধুরী আদালত ও প্রশাসনের কাজে হিন্দির প্রাধান্য বাড়ানোর কথা বলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতে ভাষা বিতর্ক পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রভাষা এবং আদালতের ভাষা নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়লেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গৌতম চৌধুরী। অবসরের ঠিক আগে একটি অনুষ্ঠানে হিন্দিতে দেওয়া তাঁর ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাংবিধানিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে বিচার করলে রাজ্য প্রশাসন থেকে শুরু করে আদালতের কার্যকারিতায় হিন্দির ব্যবহার আরও বাড়ানো উচিত। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের কাছে বিচারব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করতে হিন্দির গুরুত্ব অপরিসীম।

বিচারপতির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতে ইংরেজি এবং আঞ্চলিক ভাষার পরিবর্তে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিতর্ক দীর্ঘদিনের। তাঁর দাবি, আদালতের ভাষা যদি সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় হয়, তবে বিচারপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে। তবে এই যুক্তির আড়ালে তিনি কার্যত হিন্দির আধিপত্য বিস্তারের কথা বলেছেন, যা বহু অ-হিন্দিভাষী রাজ্যের মানুষের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্যের রেশ ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, ভারতের মতো বহুভাষিক দেশে কোনো একটি নির্দিষ্ট ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থী। বিশেষ করে উচ্চ আদালতের ক্ষেত্রে ইংরেজি ও আঞ্চলিক ভাষার যে ভারসাম্য রয়েছে, তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিচারব্যবস্থায় একঘেয়েমি বা নির্দিষ্ট ভাষার আধিপত্য আইনি জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, একদল মনে করছেন যে সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে বিচারব্যবস্থায় স্থানীয় ভাষার প্রয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন, কিন্তু তা যেন কেবল হিন্দির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। তামিলনাড়ু বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে যেখানে নিজস্ব ভাষার প্রবল প্রভাব, সেখানে এই ধরণের মন্তব্য সংবেদনশীলতার অভাব প্রকাশ করে। বিচারপতি চৌধুরীর এই ভাষণ এখন সামাজিক মাধ্যমে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, বিচারপতির এই মন্তব্য ভাষা বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিল। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক প্রস্তাব নয়, বরং ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে ভাষাগত বৈচিত্র্যের লড়াইয়েরই প্রতিফলন। এখন দেখার যে, এই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি স্তরে বা আইনি মহলে কোনো প্রতিক্রিয়া আসে কি না।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX