
প্যারিস সফর শেষে বিমানবন্দরেই বিপত্তি, তিন ঘণ্টা আটক পঞ্জাব মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান! গুণতে হলো মোটা অঙ্কের জরিমানা
প্যারিস সফর শেষে দিল্লি বিমানবন্দরে তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হল পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে। নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আম আদমি পার্টি।
প্যারিস সফর সেরে দেশে ফিরতেই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়লেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। আম আদমি পার্টির দাবি, দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর তাঁকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এই আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আপ নেতৃত্ব। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে ছাড় দেওয়া হয়, তবে তার আগে গুনতে হয়েছে মোটা অঙ্কের জরিমানা।
জানা গিয়েছে, বিমানবন্দরে নিয়মকানুন বা নথিপত্র সংক্রান্ত কোনো জটিলতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আম আদমি পার্টির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে তাঁর ওপর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। যদিও পঞ্জাব সরকারের পক্ষ থেকে এই জরিমানার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এই ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে প্রবল চর্চা। আপ নেতৃত্বের দাবি, একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে এভাবে আটকে রাখা এবং জরিমানা করা কেবল অপমানজনকই নয়, বরং এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সির প্রভাবেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্যারিসে একটি বিশেষ সফরে গিয়েছিলেন ভগবন্ত মান, সেখান থেকে দিল্লি ফেরার পথেই এই নাটকীয় মোড় এল। সাধারণত ভিআইপি প্রটোকলের আওতায় মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু এবার সেই প্রটোকল খুণ্ণ হওয়ায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত জরিমানার মাধ্যমে মিটলেও, এই ঘটনাটি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের তিক্ততাকে আরও বাড়িয়ে তুলল।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি প্রশাসনিক গাফিলতি নাকি পরিকল্পিত হেনস্থা, তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যেমন বিমানবন্দরের কড়া নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর মতো ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে এই ধরণের পদক্ষেপকে অনেকেই অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন। এখন দেখার, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আম আদমি পার্টি আগামীতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।




