
আরশোলাদের তাণ্ডবে স্তব্ধ কনৌট প্লেস! উৎসবের মরশুমের মুখে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত
আরশোলাদের উপদ্রব এবং তীব্র যানজটের জেরে উৎসবের মরশুমের মুখেও জনশূন্য হয়ে পড়েছে দিল্লির কনৌট প্লেস। ব্যবসায়িক মন্দার পাশাপাশি ক্রেতাদের অনীহায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
দেশরাজধানীর হৃদপিণ্ড বলে পরিচিত কনৌট প্লেস এখন অদ্ভুত এক নীরবতায় ডুবে গিয়েছে। উৎসবের মরশুম চলে আসায় সাধারণত এই সময়ে ভিড়ে উপচে পড়ে দিল্লির এই প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক তার উল্টো। আরশোলাদের উপদ্রব এবং তার ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জেরে কার্যত শ্মশানের নীরবতা নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। কেনাকাটার ভিড় তো দূর অস্ত, সাধারণ পথচারীরাও এখন এই এলাকা এড়িয়ে চলছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আরশোলাদের ব্যাপক উপদ্রবের কারণে অনেক দোকানপাট এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চরম অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং রাস্তার মাঝে বসানো ব্যারিকেডের ফলে যানজট মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ক্রেতারা আর এই ভোগান্তি সহ্য করতে চাইছেন না। উৎসবের কেনাকাটার জন্য মানুষ এখন কনৌট প্লেসের বদলে বিকল্প বাজারের খোঁজ করছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বছরের এই সময়টিই তাদের ব্যবসার প্রধান ভরসা। কিন্তু আকস্মিক এই বিপর্যয়ের ফলে তাঁদের রোজগার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক দোকানদার জানিয়েছেন, একদিকে আরশোলাদের উপদ্রব আর অন্যদিকে যানজটের কারণে ক্রেতাদের আনাগোনা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফাই অভিযান চালানো হলেও তা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন উঠছে।
দিল্লির এই পরিস্থিতি এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যখন উৎসবের আলোয় শহর সাজানোর কথা, তখন এমন এক অদ্ভুত সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এবং বিরক্তি দুই-ই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই সমস্যা সমাধান না করলে উৎসবের বাকি দিনগুলোতে ব্যবসায়িক ক্ষতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, কনৌট প্লেসের এই বর্তমান পরিস্থিতি এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের জন্ম দিয়েছে। যেখানে ভিড় আর কোলাহল এই জায়গার পরিচয়, সেখানে এখন কেবল শূন্য রাস্তা আর নিস্তব্ধতা। দ্রুত স্বাস্থ্যবিধি মেনে আরশোলা নিধনের কার্যকর ব্যবস্থা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে তবেই এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি তার পুরনো ছন্দ ফিরে পাবে।




