শাহের বঙ্গ সফরে মুসলিম আধিকারিকদের বর্জন! রাষ্ট্রসংঘে চিঠি লিখে বিস্ফোরক মহুয়া
রাজনীতি9 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

শাহের বঙ্গ সফরে মুসলিম আধিকারিকদের বর্জন! রাষ্ট্রসংঘে চিঠি লিখে বিস্ফোরক মহুয়া

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

অমিত শাহের বাংলা সফরে মুসলিম আধিকারিকদের রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করে রাষ্ট্রসংঘে চিঠি লিখলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। প্রশাসনিক স্তরে ধর্মীয় বৈষম্যের এই অভিযোগ কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতকে আরও উসকে দিল।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফর ঘিরে এবার চরম রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গেল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও সফরসূচি তদারকিতে রাজ্যের মুসলিম আইএএস (IAS) ও আইপিএস (IPS) আধিকারিকদের পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুললেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অভিযোগটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তিনি সরাসরি রাষ্ট্রসংঘের কাছে চিঠি লিখেছেন। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক স্তরে এই ধরনের বৈষম্য ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

মহুয়া মৈত্রর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় নির্দিষ্ট কিছু আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাঁদের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের উচ্চপদস্থ আমলাদের। সাংসদের মতে, এটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলন। তাঁর দাবি, দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরেও সাম্প্রদায়িক বিভাজন কার্যকর করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনাকে তিনি ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগের মাধ্যমে মহুয়া মৈত্র কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ তৈরি করতে চাইছেন। সাধারণত রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব দেখা দিলেও, জাতিগত বা ধর্মীয় ভিত্তিতে আধিকারিকদের বর্জনের অভিযোগ ওঠা এই প্রথম। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কাজ করার ক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নষ্ট করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই চিঠি রাষ্ট্রসংঘে পাঠানোর ফলে বিষয়টি এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। প্রশাসনিক কার্যাবলীতে ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য পাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি কেন্দ্র ও রাজ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাতের এক নতুন মোড়। প্রশাসনিক স্তরে এমন অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা আমলাতন্ত্রের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করবে। এখন দেখার যে, রাষ্ট্রসংঘের কাছে লেখা চিঠির পর কেন্দ্রীয় সরকার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX