পুজোর মুখে খুশির জোয়ার ডুয়ার্সে, চা-বাগানের শ্রমিকদের হাতে ২০ শতাংশ বোনাস
state4 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

পুজোর মুখে খুশির জোয়ার ডুয়ার্সে, চা-বাগানের শ্রমিকদের হাতে ২০ শতাংশ বোনাস

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় মালবাজারের ওয়াশাবাড়ি চা-বাগানে ২০ শতাংশ বোনাস পেলেন শ্রমিকরা। পুজোর মুখে এই অর্থপ্রদানে খুশির হাওয়া ডুয়ার্সের শ্রমিক মহলে।

শারদীয়ার ঢাকে কাঠি পড়ার আগেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের চা-বাগানে। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনে ডুয়ার্সের শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে গেল পুজোর বোনাস। মালবাজার মহকুমার ওয়াশাবাড়ি চা-বাগানে এবার ২০ শতাংশ হারে বোনাস ঘোষণা করা হয়েছে, যা শ্রমিকমহলে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই অর্থ হাতে আসায় উৎসবের প্রস্তুতিতে এখন বাড়তি গতি এসেছে শ্রমিক পরিবারগুলির মধ্যে।

সাধারণত পুজোর মুখে বোনাস নিয়ে চা-বাগানে নানা টানাপোড়েন দেখা যায়। তবে এবার রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশিকা এবং সঠিক তদারকির ফলে সময়মতো অর্থপ্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে। ওয়াশাবাড়ি বাগানের শ্রমিকদের মতে, এই বোনাসের টাকা দিয়ে তারা পুজোর নতুন জামাকাপড় এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার পরিকল্পনা করছেন। অনেক বছর পর এমন স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় বোনাস পাওয়ার ফলে বাগান কর্তৃপক্ষের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ কর্মী।

উল্লেখ্য, ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো এই চা-শিল্প। হাজার হাজার শ্রমিক এখানে জীবন অতিবাহিত করেন, যাদের কাছে পুজোর বোনাস মানেই বছরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশিত নির্দেশিকা মেনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো শ্রমিকই উৎসবের মরসুমে আর্থিক সংকটে না পড়েন। এর ফলে শুধু ওয়াশাবাড়ি নয়, সংলগ্ন অন্যান্য বাগানগুলিতেও একই রকম ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তবে শুধু বোনাস নয়, চা-শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং ন্যায্য মজুরির দাবি দীর্ঘদিনের। এই বোনাস প্রদান সেই লড়াইয়ের মাঝে এক সাময়িক স্বস্তি দিলেও, শ্রমিক ইউনিয়নগুলির দাবি— সারা বছর যেন এই সহযোগিতা বজায় থাকে। বাগান মালিক এবং শ্রমিকদের মধ্যে এই সমঝোতা আগামী দিনে শিল্পটির উৎপাদন বৃদ্ধিতেও সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সামগ্রিকভাবে, উৎসবের ঠিক আগে এই আর্থিক সহায়তা ডুয়ার্সের প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ এবং বাগান কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তার ফলে এবারের পুজো হয়ে উঠবে আরও আনন্দময়। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এবং উৎসবের আমেজ মিলে এখন এক খুশির পরিবেশ বিরাজ করছে উত্তরবঙ্গের সবুজ পাহাড়ের কোলে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX