
চোরবাগান পদপিষ্ট বিপর্যয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন, তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ
চোরবাগান পুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হাই কোর্টের নির্দেশে ছ’সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করল রাজ্য সরকার। তিন মাসের মধ্যে এই বিপর্যয়ের কারণ জানিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে তদন্তকারী দলকে।
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার চূড়ান্ত তদন্তের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাই কোর্টের কড়া নির্দেশ মেনেই এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে ছ’সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। উৎসবের আনন্দ কীভাবে এক নিমেষে শোকের ছায়ায় ঢেকে গেল, সেই রহস্য উদঘাটন করাই এখন এই বিশেষ দলের প্রধান লক্ষ্য।
তদন্তকারী দলের কাজ হবে মণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ, ভিড় সামলানোর পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার খতিয়ে দেখা। অভিযোগ উঠেছে, মণ্ডপে ভিড়ের চাপ সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক বা পুলিশ মোতায়েন ছিল না, যার ফলে হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই বিশেষ দল আগামী তিন মাসের মধ্যে তাদের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে যে, এই বিপর্যয়ের জন্য মণ্ডপ কমিটির গাফিলতি ছিল কি না।
শহরের ব্যস্ততম এলাকা চোরবাগানে পুজোর ভিড় সবসময়ই থাকে প্রচুর। কিন্তু এইবারের ঘটনাটি এক চরম প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। তাঁদের দাবি, আগে থেকেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে এমন প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল। এখন আদালতের নজরদারিতে তদন্ত চললে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন অনেকে।
রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তকারী দলের প্রতিটি সদস্য অভিজ্ঞ আধিকারিক। তাঁরা মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, ভিড় সামলানোর জন্য যে ধরণের পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, তার মান যাচাই করা হচ্ছে। এই তদন্তের মাধ্যমে আগামী দিনে পুজোর মণ্ডপগুলোতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের নতুন নির্দেশিকা তৈরি করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রশাসনের।
সামগ্রিকভাবে, ১৯টি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া এই ঘটনাটি শহরের মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমেই কেবল এই শোকাতুর পরিবারগুলো কিছুটা সান্ত্বনা পেতে পারে। তিন মাসের এই সময়সীমার মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়া হলে, ভবিষ্যতে একই ধরণের দুর্ঘটনা রোধ করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




