
চোরবাগান পদপিষ্ট কাণ্ডে উত্তাল উত্তর কলকাতা, নগরপালের পদত্যাগ দাবি কুনালের
চোরবাগান পুজোর ভিড়ে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল উত্তর কলকাতা। এই প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য নগরপালের পদত্যাগ দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ।
দেবীপক্ষের উৎসবের আলোয় যখন সেজে উঠেছে তিলোত্তমা, ঠিক তখনই উত্তর কলকাতার চোরবাগানে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যেন উৎসবের আমেজকে বিষাদে ভরিয়ে দিল। সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের বেরনোর গেটে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনাটি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ভিড় সামলাতে পুলিশের গাফিলতি এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুনাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, পুজোর ভিড় সামলানোর জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল, তা একেবারেই দেখা যায়নি। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়া প্রশাসনের এক বড়সড় গাফিলতি বলে তিনি মনে করেন। এই ঘটনার দায়ভার নিয়ে তিনি সরাসরি আক্রমণ করেছেন নগরপালকে। কুনাল ঘোষের দাবি, এই ধরণের চরম অব্যবস্থাপনার জন্য নগরপালের পদত্যাগ করা উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থানের গেটে ভিড় সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল না। ফলে হুড়োহুড়ির সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পদপিষ্ট হয়ে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হলেও, এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। উৎসবের দিনে এমন দুর্ঘটনা ভিড় সামলানোর পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাটি এখন কেন্দ্রবিন্দুতে। একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতারা একে প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করছেন। উৎসবের মরশুমে ভিড় সামলানোর কৌশল আরও উন্নত করার দাবি এখন জোরালো।
সামগ্রিকভাবে, চোরবাগানের এই দুর্ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং শহরের বড় পুজোগুলোতে ভিড় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে এনে দিল। প্রশাসনের উচিত হবে আগামী দিনগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে উৎসবের আনন্দ আর কোনোদিন এমন মর্মান্তিক ঘটনার কবলে না পড়ে।




