
কলকাতায় অপরিবর্তিত জ্বালানির দাম: স্বস্তি সাধারণ মানুষের, বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী তেলের দর
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও বৃহস্পতিবার কলকাতায় পেট্রল ও ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত থাকায় সাময়িক স্বস্তি পেলেন শহরের বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার সকালেই শহরের পেট্রোল পাম্পে গিয়ে সাধারণ মানুষের মুখে স্বস্তির চিহ্ন। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও, কলকাতায় পেট্রল এবং ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন আনেনি তেল সংস্থাগুলি। এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর শহরের জ্বালানির দামে কোনও হ্রাস বা বৃদ্ধি করা হয়নি। ফলে গত কয়েকদিনের স্থিতাবস্থা বজায় থাকল।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা সাধারণত স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্তরে তেলের দর কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় অনেকেই আশা করেছিলেন যে, কলকাতায় পেট্রোলের দাম কমতে পারে। তবে তেল সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তেমন কোনও ঘোষণা আসেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম না বাড়াই মধ্যবিত্ত এবং পরিবহন শ্রমিকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।
কলকাতার বর্তমান বাজারে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম এক নির্দিষ্ট সীমায় আটকে রয়েছে। প্রতিদিন ভোরে জ্বালানির দাম নির্ধারিত হয় এবং তা কার্যকর হয় সকাল ৬টা থেকে। সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে অটো-ট্যাক্সি চালকদের জন্য জ্বালানির দাম অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, কারণ এর সামান্য পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলে নিত্যপণ্যের দামের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে আগামী দিনে স্থানীয় বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে তেল সংস্থাগুলি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখাই সংস্থার প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, বৃহস্পতিবারের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ খদ্দেরদের পকেটে বাড়তি চাপ বাড়াল না। তবে পেট্রোলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। আগামী দিনে সরকার বা তেল সংস্থাগুলি দাম কমানোর বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।




