
কুসংস্কার‑রক্ষণশীলতার বেড়া ভেঙে লাক্ষাদ্বীপের নাইটিঙ্গেল হিদুম্বি হিন্দুম্বি
লাক্ষাদ্বীপের হিন্দুম্বি কৌরোম কাক্কাদা কুসংস্কার‑রক্ষণশীলতা ভেঙে নারীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের পথ প্রসারিত করেছেন; তার অবদান আজ গ্রামের ইতিহাসে উজ্জ্বল আলো হিসেবে রয়ে গেছে।
লাক্ষাদ্বীপের গ্রাম্য অঙ্গনে এক সময় কুসংস্কার ও ধর্মীয় রক্ষণশীলতা বদ্ধবাঁধা ছিল। তবু হিন্দুম্বি কৌরোম কাক্কাদা, যাকে স্থানীয়রা ‘নাইটিঙ্গেল হিদুম্বি’ বলে ডাকে, ঐ বাধা ভেঙে নিজের জীবনকে মানুষের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। তিনি গৃহবন্দি নারীর প্রতি সীমিত দৃষ্টিভঙ্গি, অন্ধবিশ্বাসের আড্ডা, ও পুরুষ‑প্রাধান্যের গণ্ডি ভাঙতে একে একে পদক্ষেপ নেন। তার অদম্য সংকল্পই তাকে গ্রাম্য নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
হিদুম্বি প্রথমে গ্রামের দরিদ্র শিশুরা ও বৃদ্ধদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা শিবির চালু করেন। তার উদ্যোগে গৃহে গৃহে চা‑বইয়ের আলাপ বাড়ে, আর নারীরা শৈশব থেকেই পাঠশালায় প্রবেশ করে। তিনি নারী স্বয়ংসম্পূর্ণতার গুরুত্ব বুঝিয়ে, বহু পরিবারকে কুসংস্কারজনিত বাধা ছেড়ে সন্তানকে শিক্ষা দানে উৎসাহিত করেন। তার কাজের ফলে লাক্ষাদ্বীপে নারীর শিক্ষার হার দশকের মধ্যে দ্বিগুণ হয়েছে।
হিন্দুম্বি সমাজের প্রথাগত রীতি‑নীতি বদলাতে স্থানীয় মন্দির ও পঞ্চায়েতের সঙ্গে সমঝোতা করেন। তিনি পুরোহিতদের সঙ্গে আলোচনা করে কুসংস্কারভিত্তিক রীতিকে সংস্কারমূলক দৃষ্টিতে পরিণত করেছেন। তার প্রচেষ্টায় মন্দিরের বেলা থেকে শোবার ঘরে গিয়ে নারীদের গোপনীয়তা রক্ষা করা, ও বয়সভেদে বৈষম্য শেষ করা সম্ভব হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো গ্রামবাসীর মনস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আজ হিদুম্বি আর কেবল একটি নাম নয়; তিনি লাক্ষাদ্বীপের ইতিহাসের পাতায় এক উজ্জ্বল আলো। তার কর্মদক্ষতা ও মানবিকতা তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে, যাতে তারা কুসংস্কারকে পেছনে ফেলে আধুনিক সমন্বিত সমাজ গড়ে তুলতে পারে। হিদুম্বির গল্প প্রমাণ করে যে একক ব্যক্তির সংকল্পই সমাজের পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হতে পারে।




