
পাকিস্তানে সংস্কৃতের নতুন অধ্যায় – হিজাবি শিক্ষার্থীরা শ্লোক শিখছে শাহিদ রশিদের ক্লাসে
লাহোরের এক কলেজে শাহিদ রশিদ সংস্কৃতের শ্লোক শিখাচ্ছেন, যেখানে হিজাবি ছাত্রীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। ৭৮ বছর পর ভাষা ফিরে এসেছে, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক সংলাপের নতুন সূচনা ঘটাবে।
লাহোরের এক প্রাইভেট কলেজে আজকের সকালটি রঙিন হয়েছে, কারণ শাহিদ রশিদ নামের প্রভাষক তার ক্লাসে সংস্কৃতের শ্লোক শিখাচ্ছেন। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর থেকে ৭৮ বছর ধরে যে ভাষাকে “হিন্দুত্বের প্রতীক” বলে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, সেটি এখন পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে এসেছে। রশিদ, যিনি পূর্ব ভারতীয় সংস্কৃতি ও ভাষার পণ্ডিত, তার শিক্ষাদানে হিজাবি ছাত্রীদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা এই উদ্যোগকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
শ্রেণিকক্ষে প্রায় পঁচিশজন হিজাবি ছাত্রী বসে রয়েছে, যারা সুশৃঙ্খলভাবে শ্লোকের উচ্চারণ ও অর্থ শিখছে। তাদের মুখে নতুন কিছু জানার উত্তেজনা স্পষ্ট, আর শিক্ষক রশিদ শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সংস্কৃতের দার্শনিক দিকগুলোও তুলে ধরছেন। তিনি বলছেন, “ভাষা কোনো ধর্মের গ্লাস নয়; এটি মানবিকতা ও জ্ঞানের সেতু।” এই দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পাকিস্তানি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও স্কুলে সংস্কৃত পাঠ চালু করার কথা জানিয়েছে। তবে কিছু রক্ষণশীল গোষ্ঠী এখনও প্রশ্ন তুলছে, যে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ক্ষুন্ন হবে কিনা। তবু শিক্ষাবিদরা একমত যে, ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে সৌহার্দ্য ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
অবশেষে বলা যায়, লাহোরের এই ক্লাসে শ্লোক শিখতে থাকা হিজাবি ছাত্রীরা শুধু ভাষা নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও ধারক হয়ে উঠছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের শিক্ষামূলক উদ্যোগ দু'দেশের সংস্কৃতি বিনিময়ে নতুন সেতু গড়ে তুলবে, যা উভয় সমাজের জন্যই সমৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত করবে।




