যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার পথে ইউক্রেন? সংসদে বিল আনার প্রস্তুতি
international3 ঘণ্টা আগে১ মিনিট পড়ুন

যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার পথে ইউক্রেন? সংসদে বিল আনার প্রস্তুতি

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ৩০ হাজার ড্রোন কেনার খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফি শিল্পকে বৈধ করার কথা ভাবছে ইউক্রেন। কর আদায়ের মাধ্যমে কোষাগারে অর্থ টানতেই এই বিতর্কিত বিল আনার প্রস্তুতি চলছে কিয়েভ প্রশাসনের।

রাশিয়ার সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মোকাবিলায় এখন চরম আর্থিক সংকটের মুখে ইউক্রেন। একদিকে সামরিক সরঞ্জামের বিপুল চাহিদা, অন্যদিকে দেশের পরিকাঠামো পুনর্গঠনের চাপ। এই বিপুল অর্থ সংস্থানের জন্যই এবার এক বিতর্কিত পথ বেছে নিতে চলেছে কিয়েভ প্রশাসন। জানা গিয়েছে, দেশে পর্নোগ্রাফি শিল্পকে বৈধ করে তার ওপর কর চাপিয়ে কোষাগারে টাকা টানার পরিকল্পনা করছে ইউক্রেন সরকার। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি বিল সংসদে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের বর্তমান লক্ষ্য হলো যুদ্ধের খরচ মেটানো। বিশেষ করে রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনার কথা ভাবছে কিয়েভ। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন কিনতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা মেটাতেই পর্নোগ্রাফি শিল্পের বৈধীকরণ এবং সেখান থেকে রাজস্ব আদায়ের কথা ভাবছে দেশটির সরকার। যুদ্ধের আবহে যখন সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত, তখন বিকল্প আয়ের উৎস খোঁজা এখন সরকারের কাছে বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের অনেক দেশে পর্নোগ্রাফি শিল্প ইতিমধ্যেই বৈধ এবং সেখান থেকে সরকার মোটা অঙ্কের কর পায়। ইউক্রেনও সেই পথ অনুসরণ করে একটি নিয়ন্ত্রিত আইনি কাঠামো তৈরি করতে চায়। এর ফলে একদিকে যেমন অবৈধ ব্যবসার রাশ টানা সম্ভব হবে, তেমনই কর আদায়ের মাধ্যমে সামরিক বাজেটে বড় অঙ্কের টাকা যোগ হবে। তবে রক্ষণশীল মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। তবে মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক সাহায্যের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কাটিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে কিয়েভ। পর্নোগ্রাফি শিল্পের বৈধীকরণ কেবল একটি সামাজিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি এখন একটি অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, যুদ্ধের ভয়াবহতা ইউক্রেনকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে যেখানে টিকে থাকার জন্য তাদের প্রথাগত চিন্তাভাবনার বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। ড্রোন কেনা থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর রসদ জোগানো— সব মিলিয়ে যুদ্ধের এই লড়াই এখন কেবল রণক্ষেত্রে নয়, বরং অর্থনৈতিক লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে। এখন দেখার, ইউক্রেনের সংসদ এই বিতর্কিত বিলটি পাশ করে কি না।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX