
বিচারব্যবস্থা ও সেনাকে আক্রমণ! রাহুলের বিরুদ্ধে ‘গদ্দার’ তকমা বিজেপির
বিচারব্যবস্থা ও সেনা বাহিনীকে আক্রমণ করার অভিযোগে রাহুল গান্ধীকে ‘গদ্দার’ বলে অভিহিত করল বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের সামনে ইন্ডি জোটের বিক্ষোভ এবং রাহুলের বিদেশ সফর ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক।
নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে ইন্ডি জোটের সাংসদদের প্রতিবাদ মিছিল এবং রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিদেশে গিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তাকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শাণিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির দাবি, দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে রাহুল গান্ধী কার্যত ‘দেশদ্রোহী’র মতো আচরণ করছেন।
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করছেন না, বরং ভারতের বিচারব্যবস্থা এবং ভারতীয় সেনা বাহিনীর মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। দলের প্রবীণ নেতাদের মতে, দেশের নিরাপত্তা এবং আইনি কাঠামোর সমালোচনা বিদেশে গিয়ে করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের সামনে সাংসদদের বিক্ষোভ মিছিলকে বিজেপির চোখে কেবলই একটি রাজনৈতিক স্টান্ট। গেরুয়া শিবিরের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি নেই, বরং পরাজয়ের হতাশা থেকেই এই ধরনের প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফর এবং সেখানে তাঁর বক্তব্যের ধরনকে ‘বিদেশের মাটিতে ভারতের বদনাম করানো’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিজেপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর ইন্ডি জোট এবং বিজেপির মধ্যে এই সংঘাত নতুন করে শুরু হয়েছে। একদিকে যেখানে কংগ্রেস দাবি করছে যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে রয়েছে, অন্যদিকে বিজেপি পাল্টা দাবি করছে যে রাহুল গান্ধী ক্ষমতার লোভে দেশের সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এই বাকযুদ্ধ আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বিচারব্যবস্থা ও সেনার মতো স্তম্ভগুলোকে টেনে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামানোয় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। দেশের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি বজায় রাখা নিয়ে এখন দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে।




