
মমতার হাত ছাড়ছেন নয়না? সুদীপের রহস্যময় মন্তব্যে তৃণমূলের অন্দরে তীব্র জল্পনা
লোকসভার স্পিকারের নোটিশ এবং সুদীপের রহস্যময় মন্তব্যের পর সাংসদ নয়না গোপালকৃষ্ণর দলত্যাগ নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে কি বড় কোনো রদবদল হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কি নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে? লোকসভার স্পিকারের পাঠানো দলত্যাগ সংক্রান্ত নোটিশের জেরে যখন জাতীয় রাজনীতিতে বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠল সাংসদ নয়না গোপালকৃষ্ণর অবস্থান নিয়ে। দলের প্রভাবশালী নেতা সুদীপের কৌশলের একটি মন্তব্য ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে প্রবল গুঞ্জন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নয়না কি তবে সত্যিই দল ছাড়ার কথা ভাবছেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরেই কিছু সূক্ষ্ম ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্তরে দলের কৌশল এবং কিছু নির্দিষ্ট নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে দলের ভেতরেই ভিন্ন মতের কথা শোনা যাচ্ছে। এই আবহে সুদীপের সাম্প্রতিক কিছু কথা যেন সেই জল্পনাকেই উসকে দিল। যদিও প্রকাশ্যে দলত্যাগের কথা কেউ বলেনি, কিন্তু পরোক্ষ ইঙ্গিতগুলো এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।
সাধারণত তৃণমূলের মতো কেন্দ্রীয় কমান্ডের দলে এই ধরনের গুঞ্জন খুব একটা দেখা যায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অমান্য করে কোনো বড় মাপের নেতার দলত্যাগ দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তবে নয়না গোপালকৃষ্ণর মতো ব্যক্তিত্ব যদি দলের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা কেবল লোকসভার অংকের হিসেবেই নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ সংহতির ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করবে।
তবে এই জল্পনার বিপরীতে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের দাবি, দলের ভেতরে সব ঠিকঠাক রয়েছে এবং এই ধরনের আলোচনা কেবল বিরোধীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কৌশল। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও এই বিষয়ে নীরব থাকলেও, আগামী কয়েকদিন নজর থাকবে নয়না এবং সুদীপের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সম্ভবত কোনো বড় মাপের রদবদলের আগে এই ধরণের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে।
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলবদল বা অন্দরের সংঘাত তৃণমূলের জন্য সুখকর হবে না। বিশেষ করে যখন সামনে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই, তখন দলের ঐক্য বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নয়না গোপালকৃষ্ণ শেষ পর্যন্ত মমতার হাত ধরে থাকেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত এই রহস্যময় পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।




